Home / Uncategorized / ১২ বছর বয়সে মাত্র ৮৬ দিনে কোরআনের হাফেজ

১২ বছর বয়সে মাত্র ৮৬ দিনে কোরআনের হাফেজ

মো. জাকারিয়া হুসাইন। অদম্য মেধাবী এক কিশোর। বয়স ১২। মাত্র ৮৬ দিনে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।এতো অল্প বয়সে এবং কম সময়ে হেফজ শেষ করায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষসহ এলাকাবাসী হাফেজ মো. জাকারিয়াকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে।

হাফেজ মো. জাকারিয়ার বাবা সেলিম রেজা পেশায় অটোরিক্সা চালক। লজিং থেকে পড়াশোনা করে সে এমন বিরল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। এক ভাই দুই বোনের সংসারে সে সবার ছোট।

মো. জাকারিয়া হুসাইন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার তামাই কবরস্থান সংলগ্ন আল জামিয়াতুল আহলিয়াতুল আমিনিয়া (তামাই কবরস্থান মাদরাসা) মাদরাসার ছাত্র। ওই মাদরাসা প্রাঙ্গনে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষ অংশগ্রহণ করে।লুঙ্গি শিল্পের গ্রাম হিসেবে খ্যাত তামাই গ্রামে মাদরাসাটি ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত এ মাদরাসা প্রায় ১১ শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির হিফজ বিভাগের শিক্ষক আবুল হাসান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ২০১৬ সালের শেষ দিকে নুরানি পড়া শুরু করে রাফসান। ২০১৮ সালের নভেম্বরের আগে নাজেরা শেষ করে। এরপর নভেম্বরের ৪ তারিখে কোরআন শরিফ হেফজ করতে দেওয়া হয় তাকে। এদিন ৩০তম পারা শুরু করে সে। অবাক করার বিষয় হলো যে, দুই দিনে সে ৩০তম পারাটি পুরো মুখস্থ শুনিয়ে দেয়।

শিক্ষক আরো বলেন, আমরা মনে করি রাফসানের এই পারাটি আগে মুখস্থ ছিল। তাই সে দুই দিনেই পড়া শুনিয়ে দিতে পেরেছে। পরের দিন আমরা তাকে কোরআনের প্রথম পারা মুখস্থ করতে দেই। এবার সে পুরো পারাটি দুই দিনে মুখস্থ করে শুনিয়ে দেয়। এভাবে সে দুই দিনে এক পারা করে মুখস্থ করতে থাকে। ১০ পারা পর্যন্ত এভাবে চলে তার।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করছেন আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সমাজসেবক আলহাজ্ব ফজলার রহমান তালুকদার, মো. রুহুল আমিন মিঠু, অধ্যক্ষ মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মো. আবদুল মান্নান তালুকদার, মো. আইয়ুব আলী খান ও আলহাজ্ব নান্নু আকন্দ প্রমুখ।

সংর্বধনা শেষে হাফেজ মো. জাকারিয়াকে দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাফেজ জাকারিয়া বড় হয়ে হক্কানি আলেম হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। তার শিক্ষকরা আজীবন তার পাশে থাকার কথা জানান।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত শেষে মো. জাকারিয়া জানায়, আমি যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি তার পেছনের মূল অবদান আমার শিক্ষক হাফেজ এনামুল হাসানের। এ ছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও অবদান ছিল।

হাফেজ এনামুল হাসান বার্তা২৪.কমকে জানিয়েছেন, হাফেজ জাকারিয়া কম করে হলেও প্রতিদিন ৮ পৃষ্ঠা সবক শুনিয়েছে। মাঝে-মধ্যে বেশিও মুখস্থ করত। সবোর্চ্চ ১৫ পৃষ্ঠা একদিনে মুখস্থ করেছে। সে পড়াশোনায় খুবই মনোযোগী, তাকে পড়ার জন্য কখনও তাগাদা দিতে হয়নি।

About admin

Check Also

২০২০ সালে ৫০ সংবাদকর্মীকে

চলতি বছরেই ৫০ সংবাদকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। যেসব দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেসব দেশে কোনো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *