Breaking News
Home / Uncategorized / এই কুলাঙ্গাররাই আমার স’র্ব’না’শ করেছে

এই কুলাঙ্গাররাই আমার স’র্ব’না’শ করেছে

Binodontimes: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা দু’টি মামলা শুক্রবার রাতে গ্রহণ করেছে নোয়াখালী পিবিআই। শনিবার সকালে ৩ আসামি নুর হোসেন বাদল, কালাম ও সাজুকে নিয়ে পিবিআই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় আসামিদের নির্যাতিতা নারীর মুখোমুখি করা হয়।

ঘটনার সময় কার কি ভূমিকা ছিল। কে কোথায় অবস্থান করছিল তার বিস্তারিত তথ্য নেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তদন্ত সূত্র জানায়, নির্যাতিতা নারী আসামিদের দেখেই চিনতে পারেন। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, এই কুলাঙ্গাররাই আমার সর্বনাশ করেছে। এদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়।

এ সময় নির্যাতিতা নারী আসামিদের ওইদিনের ভূমিকার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। শনিবার সকাল ১০টায় ওই ৩ আসামিকে সঙ্গে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারীও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এখলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাড়িতে যান।

পিবিআই কর্মকর্তাগণ ওই বাড়িতে ২০ মিনিটের মতো অবস্থানকালে নির্যাতনে শিকার ওই নারীর বসতঘরে ঘটনাস্থল ও আশপাশ ঘুরে দেখেন। তবে, এ সময় তারা স্থানীয় কারো সঙ্গে কথা বলেননি। এর আগে শুক্রবার সকালে পিবিআই নোয়াখালীর ইন্সপেক্টর সুভাষ চন্দ্র পালের নেতৃত্বে একটি দল এখলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের নির্যাতিতা ওই নারীকে নিয়ে তার বাড়ি পরিদর্শনে যায়।

এ সময় মামলার তদন্তকারী ২ কর্মকর্তা ছাড়াও পিবিআই চট্টগ্রামের তদন্ত বিশেষজ্ঞ ফারুক আহমেদ এবং মামলা দু’টির সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বাড়িটিতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলমগীর হোসেন মানবজমিনকে জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ভুক্তভোগীর দায়ের করা দু’টি মামলা পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পিবিআই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাটির

তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করে পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারীকে এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানকে। উল্লেখ্য, ঘটনার দিন দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং তা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। গত রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চার দিকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

এক মাস আগে এই ঘটনা ঘটলেও আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী কোনো মামলা করতে পারেননি। ভিডিও প্রকাশের রাতেই পুলিশ নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে খুঁজে বের করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। ওই রাতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার মামলা নং ৫ ও ৬। দুই মামলার এজাহারে ৯ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়। ২ মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ৬ জন এবং তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে ৫ জনকে। এ ছাড়াও নির্যাতিতা মহিলা দেলোয়ার বাহিনী প্রধান দেলোয়ার ও তার প্রধান সহযোগী কালামকে আসামি করে আরো ১টি ধর্ষণের মামলা করেন।

এছাড়া দোলোয়ারের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরের জেলায় ২টি অন্ত্রের মামলা রয়েছে। দেলোয়ার বর্তমানে অস্ত্র মামলায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় রিমান্ডে রয়েছে। এছাড়া এখলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগসহ ৪ আসামি নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

নোয়াখালীর এ ঘটনার প্রতিবাদে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

About admin

Check Also

রৌমারী সীমান্তে ‘বাংলাদেশি ভেবে’ ভারতীয় যুবককে গুলি করে হ’ত্যা করলো বিএসএফ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে মোহাম্মদ আলী (২০) নামে ভারতীয় এক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *