Breaking News
Home / Uncategorized / আটকা পড়ল ২০০ কোটি টাকার গরু–মহিষ

আটকা পড়ল ২০০ কোটি টাকার গরু–মহিষ

Binodontimes: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে গবাদিপশু আমদানি সরকার হঠাৎ বন্ধ করায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছেন। কারণ, সীমান্তের ওপারে তাঁদের ২২ হাজারের মতো কোরবানির গরু-মহিষ আটকা পড়েছে, যেগুলোর দাম প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ব্যবসায়ীরা কোরবানির আগে পশুগুলো দেশে আনার সুযোগ দাবি করেছেন। তা না হলে তাঁরা বড় লোকসানে পড়বেন বলে জানান।

গত রোববার জেলা চোরাচালান প্রতিরোধ টাস্কফোর্স কমিটির এক অনলাইন বৈঠকে শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে নৌপথে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়, যা সোমবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্বে করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। এ কারণে দুদিন ধরে এই করিডর দিয়ে পশু আমদানি বন্ধ রয়েছে।

গত মে ও জুন মাসে শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে ২৫ হাজার ৮৬৮টি গরু ও ৪ হাজার ২৫৮টি মহিষ আমদানি হয়েছে। এর আগে মার্চ ও এপ্রিল মাসে আসে ১১ হাজার ৮৮৬টি গরু ও ২ হাজার ৪২৪টি মহিষ।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তে এ পথ দিয়ে পশু আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। এখন কেউ মিয়ানমার থেকে পশু নিয়ে এলে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আমদানির জন্য দেশের ব্যবসায়ীদের প্রচুর টাকা বিনিয়োগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসকের সাফ জবাব, এ ক্ষেত্রে তাঁর করার কিছু নেই। তিনি শুধু সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন।

সরেজমিনে গত মঙ্গলবার দুপুরে শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে জানা যায়, এদিন মিয়ানমার থেকে কোনো পশু আমদানি হয়নি। ১২ থেকে ১৩ জন পশু ব্যবসায়ী সেখানে উদ্বেগ নিয়ে অবস্থান করছেন।

পশু আমদানিকারক শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোরবানির সময় বিক্রির জন্য মিয়ানমারের আকিয়াব (সিঠুয়ে) থেকে প্রায় ৬০০টি গরু কিনেছি। এ জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। গত ১২ দিনে প্রায় ১০০টি গরু দেশে এসেছে। অবশিষ্ট ৫০০ গরু এরই মধ্যে আসার কথা ছিল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় পশুগুলো আনা সম্ভব হয়নি। হঠাৎ পশু আমদানি বন্ধ করায় দিশা হারিয়ে ফেলেছি। কোরবানির আগে গরুগুলো আনতে না পারলে বিনিয়োগের টাকা তুলে আনা সম্ভব হবে না।’

টেকনাফের গুদারবিল গ্রামের পশু ব্যবসায়ী আবু ছৈয়দ জানান, মিয়ানমারে তাঁর ৯৮০টি গরু ও মহিষ কেনা আছে। প্রতিটির ওজন পাঁচ মণের বেশি। নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি পশুগুলো আনতে পারছেন না।

অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে টেকনাফ সদরের মো. আবদুল্লাহর ৫০০টি, আবদুল্লাহ মুনিরের ৮০০টি, কামরুল হাসানের ৮০০টি, আলমগীরের ৮০০টি; খারাংখালীর উলা মংয়ের ৫০০টি, চৌধুরীপাড়ার ম ম চিংয়ের ৮০০টি, দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার নুরুল আলমের ৫০০টি, সাবরাংয়ের শরীফ আহমদের ৪০০টি, শাহপরীর দ্বীপের আবদুল শুক্কুরের ৬০০টি গরু ও মহিষ এখন মিয়ানমারে আটকে আছে।

শাহপরীর দ্বীপ করিডর পশু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাসিম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর কোরবানির সময় দেশে পশুর সংকট দেখা দেয়। সে সংকট মোকাবিলা ও চাহিদা পূরণের জন্য সরকারিভাবে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানিতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হয়। গত বছর কোরবানির সময় এ করিডর দিয়ে অন্তত ৩০ হাজার পশু আনা হয়। এবারও অন্তত ২২ হাজার গরু-মহিষ কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু হঠাৎ এ করিডর বন্ধ করায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, আমদানি বন্ধ থাকলে স্থানীয় বাজারে কোরবানির পশুর নিয়ে সংকট দেখা দিতে পারে। তখন দেশীয় পশুর দামও বেড়ে যাবে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। সরকারও রাজস্ব হারাবে।

জানতে চাইলে টেকনাফ কাস্টমসের সুপার মো. আবদুন নুর জানান, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার এ করিডর দিয়ে পাঁচ শতাধিক পশু আমদানি হয়েছিল। এর পর কয়েক দিন পশু আমদানি হয়নি।

ব্যবসায়ীরা জানান, আকিয়াব থেকে বড় কাঠের জাহাজ অথবা ট্রলারে করে বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পশু আনা হয় শাহপরীর দ্বীপ করিডরে। প্রতিটি গরু ও মহিষের বিপরীতে রাজস্ব নেওয়া হয় ৫০০ টাকা করে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত মে ও জুন মাসে শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে ২৫ হাজার ৮৬৮টি গরু ও ৪ হাজার ২৫৮টি মহিষ আমদানি হয়েছে। এর আগে মার্চ ও এপ্রিল মাসে আসে ১১ হাজার ৮৮৬টি গরু ও ২ হাজার ৪২৪টি মহিষ। চার মাসে পশু আমদানির বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ২২ লাখ টাকা।

About admin

Check Also

ভারতের সঙ্গে খেলায় শোয়েবকে ‘জিজাজি’ বলে স্লোগান দর্শকদের (ভিডিও)

দীর্ঘ ২৮ মাস পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং পাকিস্তান। রোববার দুবাইয়ে টি-টোয়েন্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *