Breaking News
Home / Uncategorized / বাবা’র লাশ সামনে রেখে জমি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত সন্তানেরা

বাবা’র লাশ সামনে রেখে জমি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত সন্তানেরা

Binodontimes: মৃ`ত্যু বাবার লাশ রয়েছে সামনেই। জমি ভাগাভাগিতে বিচার। কেউ আবার থানায়। দিন শেষে, রাত পেড়িয়ে গেল।

কোন সমাধান হলো না। তাই বাবার লাশও দাফন করা হলো না। এক দিন পর দুপুরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিচারে মাধ্যমে দাফন করার সিন্ধান্ত হয়। কিন্ত পুলিশ এসে হাজির। এক ছেলের অভিযোগে পুলিশ এসে লাশ রাজবাড়ী হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এমনি এক ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা দেবগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ পাঁচুরিয়ার অম্বলপুর গ্রামে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জুলাই) দুপুরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে ইয়াছিন মোল্লা (৮৫)। কিন্ত বাবার লাশ দাফন না করে পাঁচ সন্তান সারাদিন ঝগড়া করে। দিন শেষে সারারাত চলে পরিবারের সকলের ঝগড়া। তবুও শেষ হয় না। এমন চিত্র দেখে এলাকাবাসী স্থানীয় দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম এর সংবাদ দেয়।

এলাকাবাসী আরও জানান, বুধবার (৭ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানেই পরে থাকে লাশ। দীর্ঘ ২২ ঘন্টা পর শালিসের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে অন্য ছেলের অভিযোগে পুলিশ এসে হাজির। গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রাজবাড়ী হাসপাতালে মর্গে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মৃত ইয়াছিন মোল্লার ৫ সন্তানের মধ্যে বাবলু মোল্লা, ফুলবড়ু, রাবেয়া ও মমতাজের সাথে ছোট ছেলে রহমান মোল্লার দীর্ঘ দিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে লাশ দাফন না করে জমি ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

মৃত ইয়াছিন মোল্লার সন্তান বাবলু মোল্লা, ফুলবড়ু, রাবেয়া ও মমতাজ অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাবা ছোট ভাই রহমান মোল্লার কাছে থাকত। এই সুযোগে তার সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন। এ নিয়ে রাজবাড়ী কোর্টে আমরা একটা মামলাও করি। সেই মামলায় গত ৫ জুলাই কোর্টে বাবাকে হাজির হতে নির্দেশ দিলেও অসুস্থ্যতার কারণে সে উপস্থিত থাকতে পারেনি। অসুস্থতার খবরে আমরা বাবাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে বললেও ছোট ভাই স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা করায়। আমাদের ধারণা ছোট ভাই রহমান ঘুমের ঔষুধ খাইয়ে তাকে মেরে ফেলেছে।

ইয়াছিন মোল্লার ছোট ছেলে রহমান মোল্লা বলেন, আমি বাবাকে দেখভাল করতাম। গত শুক্রবার হঠাৎ করে বাবা অসুস্থ্য হলে তাকে গোয়ালন্দে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাই। এ সময় ডাক্তার কিছু টেস্ট ও ঔষুধ লিখে দেয়। বাবাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাতে বলেন। আমি সেই মতে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাই। গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে বাবা আরো বেশী অসুস্থ্য হলে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন।

দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনা শোনার সাথে সাথেই আমি ঘটনাস্থানে উপস্তি হই। শালিসের মাধ্যমে লকডাউনের পরে সমাধানের কথা বলে স্ট্যাম্পে তাদের উভয় পক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে মৃত ইয়াছিন মোল্লার দাফনের সিদ্ধান্ত নেই। এ সময় ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক এসআই মো. মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করি এবং জিডি মূলে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

About admin

Check Also

ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চালক, যে হাল হলো যাত্রীদের

টাঙ্গাই‌লের কা‌লিহাতী‌তে বাস খা‌দে প‌ড়ে ৬০ বছর বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নি,হ,ত, হ‌য়ে‌ছেন। এ ঘটনায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *