Breaking News
Home / Uncategorized / মানুষ খু<ন করে মাং<স দিয়ে বার্গার বানিয়ে খেতেন তিনি!

মানুষ খু<ন করে মাং<স দিয়ে বার্গার বানিয়ে খেতেন তিনি!

Binodontimes: মানুষ হয়ে জন্মালেই মানুষ হওয়া যায় না। কথাটির প্রমাণ চারপাশে ছড়িয়ে আছে অজস্র। তবে কিছু কিছু মানুষ পশুর চেয়েও বেশি হিংস্রতা দেখিয়েছেন। মনুষত্ব বা আবেগ কিছুই নেই তাদের মধ্যে। আর যখন এসবের ঊর্ধ্বে কেউ চলে যায়; তখনই নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
অনেকেই ইতিহাসে নিজের জায়গা করেছেন হিংস্রতা, বর্বরতা এবং নির্মমতার জন্য। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সিরিয়াল কিলারের তকমা পেয়েছেন।

একের পর এক হ<ত্যা, তাদেরকে আরো নিষ্ঠুর করেছে। সিরিয়াল কিলারের কথা বলতেই অনেকের মনে জ্যাক দি রিপারের নাম উঁকি দিচ্ছে নিশ্চয়? তবে শুধু তিনিই নন, আরও অনেকে এই তালিকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যোগ হয়েছেন। তাদের হ<ত্যার ধরণ, অ<ত্যাচার, নি<ষ্ঠুরতার বর্নণা পাথর হয়ে যাওয়া মনকেও ভয় পাইয়ে দিবে। সিরিয়াল কিলারদের তালিকায় থাকা জো মেথেনি তার শিকারদের হ<ত্যার পর তাদের মাং<স দিয়ে বার্গার বানিয়ে খেতেন। ভাবতে নিশ্চয় আপনার শরীর বেয়ে নেমে যাচ্ছে হিমশীতল বাতাস।

হ্যাঁ, এমনটাই করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিরিয়াল কি<লার। প্রথম খু<নটা জো করেছিলেন ১৯৯৪ সালে একজন প<তিতা নারীকে। ৩৯ বছর বয়সী ক্যাথি অ্যান ম্যাগাজিনা নামের সেই নারীর দোষ ছিল তিনি প<তিতাবৃত্তি করেন। হ<ত্যার পর জো যে কারখানায় কাজ করতেন সেখানেই এক জায়গায় পুঁতে রাখেন তাকে। ছয় মাস পর সেখান থেকে ওই নারীর দেহ তুলে ময়লার ডাস্টবিনে ফেলে দেন। জো বেশিরভাগ হ<ত্যা করেছেন ম<দ্যপ মানুষকে। তিনি খু<নের পর মানুষের মাং<স দিয়ে বার্গারের পেটি তৈরি করতেন। এরপর নিজেই সেটি খেতেন। এমনকি শূকরের মাং<সের সঙ্গে মাঝে মাঝে মিশিয়ে দিতেন মানুষের মাং<স।

রাস্তার পাশে তার একটি খাবারের দোকান ছিল। এরপর এসব খাবার এবং মাং<স পথচারীদের কাছে বিক্রি করতেন নৃ<শংষ এই মানুষটি। মেথেনি তার এক স্বীকারোক্তিতে বলেছিলেন, তার বিক্রি করা মাং<স বা খাবারের জন্য কোনো ক্রেতা কখনও কোনো অ<ভিযোগ করেননি। বরং বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন বার্গারের স্বাদে খানিকটা বৈচিত্রের জন্য। তার মতে, শূ<করের মাং<সের সঙ্গে মানুষের মাং<সের বেশ মিল আছে।

যখনই তার মানুষের মাং<সের প্রয়োজন পরত তখনই তিনি ভবঘুরে কাউকে হ<ত্যা করতেন। মোট ১৩টি খুন করেছেন জো। এদের মধ্যে বেশিরভাগি ছিল ম<দ্যপ, মা<দকাসক্ত এবং প<তিতা। অন্যান্য সিরিয়াল কি<লারদের মতো জো মেথেনিরও হ<ত্যার ধরন ছিল একই রকম। গলা টিপে অথবা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হ<ত্যা করত সে। এরপর মৃ<তদেহ হয় মাটিতে পুঁতে ফেলতেন। আর তা সম্ভব না হলে রান্না করে খেতে নিতেন।

জো নিজের স্ত্রী এবং ছেলেকেও হ<ত্যা করেন। এরপর তাদের ম<রদেহ নদীতে ফেলতে গিয়ে এক জেলের কাছে ধরা পড়ে যান। নিজেকে বাঁচাতে সেই জেলেকেও হ<ত্যা করার পর নদীতে ফেলে দেন। এসব কথা ১৯৯৭ সালে পু<লিশের হাতে গ্রে<ফতার হওয়ার পর নিজেই স্বীকার করেন তিনি। এই ভ<য়ংকর জোসেফ মেথেনির জন্ম ২ মার্চ ১৯৫৫ সালে বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড অঞ্চলে। মেথেনি ছোটবেলা থেকেই খানিকটা অ<বহেলিত হয়ে বড় হয়েছেন। তার বাবা ছিলেন ম<দ্যপ। মেথেনির যখন ছয় বছর বয়স তখন তিনি ম<ধ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে দু<র্ঘটনায় মা<রা যান।

সংসার চালাতে গিয়ে মেথেনির মাও বেশিরভাগ সময় কাজে বাইরে থাকতেন। সেজন্য ছেলেকে বেশি সময় দিতে পারতেন না তিনি। মেথেনির আরো পাঁচ ভাইবোন ছিল। বলতে গেলে এই বাচ্চাগুলো বাবা মা ছাড়া ছন্নছাড়া একাকীই বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই দরিদ্র্যতার সঙ্গে লড়েছেন তিনি।
পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করতে কখনো রেস্তোরাঁয় খাবার সার্ফ করেছেন কখনো বা খাবারের ট্রাক চালিয়েছেন।
১৯৭৩ সালে যখন মেথেনির ১৮ বছর বয়স তখন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সে<নাবাহিনীতে যোগদেন। সে<নাবাহিনীতে থাকাকালীন জার্মানিসহ ভিয়েতনামে সফর করেছেন।

সেখানে আর্টিলারি ইউনিটে থাকাকালীন হেরোইন আ<সক্ত হয়ে পড়েন মেথেনি। এরপর চাকরি চলে যায় মেথেনির। মেথেনির ৬ ফিট ১১ ইঞ্চি উচ্চতা অন্যদের থেকে খানিকটা আলাদা করেছিল। তার ওজনও ছিল অনেক বেশি। চাকরি থেকে চলে আসার পর মেথেনি মাত্রারিক্ত মা<দকাসক্ত হয়ে পড়েন। কো<কেইন, হে<রোইন এবং অ্যা<লকোহলে ব্যয় করেন জমানো সব অর্থ। সেই সঙ্গে খানিকটা উদ্ভ্রান্ত জীবনযাপন করতে থাকেন। এ কারণে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে আবার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। এরপর স্ত্রী এবং ছেলেকে গলা টিপে হ<ত্যা করেন মেথেনি। ততদিনে মানসিকভাবে যে পুরোপুরি বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন তা বলতে আর বাকি থাকে না। তবে মেথেনি তার স্ত্রী এবং ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে থা<নায় ডায়েরিও করে ছিল।

১৯৯৫ সালে বাল্টিমোরের হ্যানোভার স্ট্রিট ব্রিজের নিচে গৃহহীনদের এক ক্যাম্পে র্যাডাল ব্রুয়ার এবং র্যান্ডি পাইকারকে কুড়াল দিয়ে হ<ত্যা করে মেথেনি। এই হ<ত্যার দায়ে অবশ্য মেথেনিকে গ্রে<ফতারও করা হয়েছিল। সেসময় তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেয় আ<দালত। তবে প্রমাণ না পাওয়ায় এবং মেথেনির নির্লিপ্ত ব্যবহারের জন্য এক বছর নয় মাস পরই তিনি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যান। ১৯৯৬ সালে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আবারও হ<ত্যার নে<শা পেয়ে বসে থাকে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কিথারলি লিন স্পাইসার নামে এক নারীকে ছু<রি কা<ঘাত করে হ<ত্যা করেন মেথেনি। কিথারলিও ছিলেন একজন প<তিতা এবং মা<দকাসক্ত নারী। মেথেনি প্রথমে তাকে অ<পহরণ করে, এরপর ধ<র্ষণ ও হ<ত্যা করে। মেথেনি একটি কারখানায় কাজ নিয়েছিলেন। সেখানেও এক নারীকে ধ<র্ষণ ও হ<ত্যা চেষ্টার জন্য পু<লিশ তাকে গ্রে<ফতার করে। তবে এবারো কোনো প্রমাণ না থাকায় ছাড়া পেয়ে যান মেথেনি।

পু<লিশ জানায়, জোসেফ মেথেনি একজন মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ। তিনি বেছে বেছে সাদা চামড়ার যৌ<নকর্মীদের হ<ত্যা করতেন। যারা হে<রোইন এবং কো<কেনের আ<সক্ত এমন নারীদের শিকার হিসেবে বেছে নিতেন মেথেনি। হ<ত্যাকাণ্ডের সময় পাশবিক যৌ<ন নি<র্যাতনও করতেন তিনি। সবশেষ মেথেনি টনি লিন ইনগ্রাসিয়া নামের ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে হ<ত্যা করে। আর সেই অ<ভিযোগে পু<লিশ তাকে আটক করে। এ সময় মেথেনি একবারও পা<লানোর চেষ্টা করেনি। বরং খুব স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে ধরা দিয়েছে পু<লিশের কাছে।

বাল্টিমোর পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে এই নরপিচাশের কথা জানতে পারে বিশ্ববাসী। শিউরে উঠতে থাকে তার কার্যকলাপের বর্নণা শুনে। ১৯৯৭ সালে কেম্পার মামলায় তাকে বি<চার করা হয়েছিল। অ<পহরণ এবং যৌ<ন নিপীড়নের চেষ্টা করার জন্য ৫০ বছরের কা<রাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে স্পাইসর হ<ত্যার দায়ে তাকে মৃ<ত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ম্যাগাজিনারকে হ<ত্যা এবং ছি<নতাইয়ের জন্য তাকে দো<ষী সাব্যস্ত করেন আ<দালত।

এমনকি সেই মামলায় আইনজীবীরা তার মৃ<ত্যুদণ্ড চাইলেও যাবজ্জীবন কা<রাদণ্ড দেন আ<দালত। তবে মৃ<ত্যুদণ্ড কা<র্যকর হওয়ার আগেই ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট তিনি মা<রা যায়। ৬২ বছর বয়স হয়েছিল তার। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি হার্ট অ্যাটাকে কারাগারেই তিনি মৃ<ত্যুবরণ করেছেন।

About admin

Check Also

রৌমারী সীমান্তে ‘বাংলাদেশি ভেবে’ ভারতীয় যুবককে গুলি করে হ’ত্যা করলো বিএসএফ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে মোহাম্মদ আলী (২০) নামে ভারতীয় এক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *