Breaking News
Home / Uncategorized / আলহামদুলিল্লাহ, কোরআন তেলাওয়াত শুনে ফরাসি তরুণীর ইসলাম গ্রহণ,বিস্তারিত ভিতরে,

আলহামদুলিল্লাহ, কোরআন তেলাওয়াত শুনে ফরাসি তরুণীর ইসলাম গ্রহণ,বিস্তারিত ভিতরে,

Binodontimes: আমি দক্ষিণ ফ্রান্সের একটি ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে উঠেছি। ছুটি কাটানো ছাড়া ধর্ম আমাদের জীবনের বিশেষ কিছু ছিল না।

ফ্রান্সে ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিষয়।মাধ্যমিক স্কুলে একটি মুসলিম মেয়ে আমার সহপাঠী ছিল। তার সঙ্গে কেউ বন্ধুত্ব করতে রাজি ছিল না।

আমি তাঁর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম। আমার মা-বাবা বলেছিলেন সবার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে—সে যে বর্ণেরই হোক এবং যেখান থেকেই আসুক। তাই আমি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বের সিদ্ধান্ত নিলাম।”

মনে পড়ে, মারিয়াম ছিল ব্যক্তিত্ববান এবং অঙ্ক করার সময় সমস্যায় পড়লে সে আমাকে সাহায্য করত।”

সপ্তাহে দুইবার আমি ও মারিয়াম আমাদের বাড়িতে লেখাপড়া করতাম। একদিন কোনো কারণে আমাদের বাড়িতে পড়া সম্ভব ছিল না। সে আমাকে তাদের বাড়িতে”

আমন্ত্রণ জানাল। আমি আগে কখনো তাদের বাড়ি যাইনি। তার মায়ের সঙ্গে দেখা হবে—এই ভাবনায় আমার ভেতর উত্তেজনা অনুভব করছিলাম।

তখন আমার বয়স ১৫ বছর। তারা ছোট একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকত এবং মারিয়ামের নিজস্ব কোনো বেডরুম ছিল না। আমরা লিভিংরুমেই পড়তে বসলাম। তার মা ছিলেন খুবই বন্ধুসুলভ। তিনি আমাদের জন্য খাবার তৈরি করলেন। আমরা যখন পড়ছিলাম,”

মারিয়ামের মা তখন রুমের অন্য পাশে বসে একটি বই পড়ছিলেন। যদিও তিনি নিচু স্বরে পড়ার চেষ্টা করছিলেন, তবু আমি তাঁর চমৎকার সুর শুনতে পাচ্ছিলাম।”

মারিয়ামকে জিজ্ঞেস করলাম, তার মা কী করছেন। সে উত্তর দিল, মা মুসলমানের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন পাঠ করছেন। আমি বিস্মিত হলাম। কেননা আমি কখনো এভাবে কাউকে বাইবেল পাঠ করতে দেখিনি।

মারিয়ামের মাকে বললাম, আপনি আমাদের কাছে বসুন এবং কোরআন পাঠ করে শোনান। যদিও আমি একটি শব্দও বুঝিনি, তবু তাঁর কোরআন পাঠে আনন্দ পেলাম এবং তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেল।”

সেদিনের পর আমি বারবার মারিয়ামের বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেছি, যেন তার মায়ের কাছ থেকে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে পারি। কোরআন শুনতে শুনতে একপর্যায়ে আমি তাঁর ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলাম।

তিনি ইসলামের পাঁচটি মূলস্তম্ভ সম্পর্কে জানালেন। তিনি প্রতিদিন পাঁচবার স্রষ্টার প্রার্থনা করেন শুনে আমি বিস্মিত হলাম। আমি তাঁর প্রার্থনা (ইবাদত) দেখার আবেদন করলাম এবং তিনি তা অনুমোদন করলেন।”

তাঁর প্রার্থনা, স্রষ্টার সামনে তাঁকে সিজদাবনত দেখে ইসলামের প্রতি আমার ভক্তি ও ভালোবাসা তৈরি হলো। একদিন আমি বললাম, আমি কি আপনার সঙ্গে প্রার্থনা করতে পারি? তিনি আমাকে মুসলিম হতে না বলে তাঁর সঙ্গে প্রার্থনা করার আহ্বান জানালেন।

আমি, মারিয়াম ও তার মা লিভিংরুমে একসঙ্গে প্রার্থনা করলাম। তখন আমার বয়স ১৬ বছর। ইসলাম গ্রহণের আগেই আমি ইসলামী প্রার্থনায় (নামাজ, মোনাজাত ইত্যাদি) অভ্যস্ত হয়ে গেলাম।”

তবে আমি পরিবার নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। আমার ভয় ছিল, তারা এটা অনুমোদন করবে না। মারিয়াম ও তার মা আমাকে কখনো ইসলাম গ্রহণের জন্য চাপ দেননি। হাই স্কুল শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আমি প্যারিসে যাই। এটা ছিল আমার জীবন বদলে দেওয়ার অবারিত সুযোগ। আমি বিষয় হিসেবে ইতিহাস ও আরবি ভাষা নির্বাচন করলাম।

কারণ আমি কোরআন সম্পর্কে জানতে চাই। ইসলাম সম্পর্কে আমার আগ্রহ বাড়ছিল। ইসলাম সম্পর্কে পড়তে শুরু করলাম এবং প্রার্থনার অভ্যাস অব্যাহত থাকল। ইসলাম সম্পর্কে যত জানছিলাম, ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ তত বাড়ছিল।”

মারিয়ামের মায়ের প্রথম তিলাওয়াত শোনার ১০ বছর পর আমি ইসলাম গ্রহণ করি। পরিবারকে ইসলাম গ্রহণের কথা জানালে তারা ব্যথিত হয়। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বহাল রাখতে এবং তাদের ভুল ভাঙাতে আমার দীর্ঘ সময় লাগে।

আরও সংবাদ

ফ্রান্সে বেড়ে গেছে ইসলামী বই পুস্তকের বিক্রি

সম্প্রতি ‘ইসলাম-ইন-ক্রাইসিস’ বলে এক বক্তব্য দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ, এ কারণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তাকে সাবধান করে দিয়েছেন। ইসলাম নিয়ে ম্যাক্রোঁ শুরু থেকেই বাতিকগ্রস্ত। তিনি সবসময় মুসলমান ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে থাকেন।”

এসব বক্তব্যে এতটুকু বোঝা যায় যে, ইসলাম সম্পর্কে তার জ্ঞানের পরিধি কম! আর্মেনিয়া যুদ্ধে বেকাদায় পড়ে যাওয়ায় তিনি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ফরাসি আর্মেনিয়ানরাও দল বেঁধে ছুটছে যুদ্ধ করার জন্য। যুদ্ধে আজারীদের অভাবিত জয়ে ম্যাক্রোঁ বিভিন্ন স্থানে তুরস্ক ও ইসলামবিরোধী বেসামাল বক্তব্য দিতে থাকেন।”

ইসলামের বিরুদ্ধে ম্যাক্রোঁর অবস্থান বহু পুরনো, এমনকি তার পূর্বসূরি সারকোজিও চরম ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন। ফরাসিরা সব সময় মুসলমান ও ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করে আসছে ও ইসলামের নতুন রূপ দিয়ে ‘ফরাসি ইসলাম’ বানানোর চেষ্টা করছে। অথচ একসময় মুসলিম দেশগুলোকে কলোনি বানিয়ে সম্পদ চুরি করে প্যারিসকে চকচকে বানিয়েছে।”

ফরাসি সরকার মনে করে মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ইসলামের শিক্ষা দেয়া হয়। তাই ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ইমামরা ‘মধ্যপন্থী ইসলাম’ ধারণায় সমৃদ্ধ হয়ে মানবাধিকার ও রিপাবলিকান কোডের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।”

সরকার ইসলামকে ‘অর্গানাইজ’ করে সত্যিকার ‘ফরাসি ইসলাম’ বানাতে চায়। যাতে ঘৃণা, মানবাধিকার ও রেসিজম থেকে দূরে থাকে। নতুবা ‘এদের’ ফ্রান্স থেকে বের করে দেয়ার কর্মসূচিও সরকারের আছে। ২০০১ সাল থেকে ফরাসি ‘মূল্যবোধ বিরোধী’ প্রায় ৪০ জন ইমামকে ফ্রান্স থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।”

ফরাসি সরকারগুলো ১৯৮০ সাল থেকে নতুন ব্র্যান্ডের ইসলাম চালু করতে চায়। ম্যাক্রোঁও সেটি চান। দেশের মুসলিম সংখ্যালঘু ও ইসলামী চরমপন্থীকে লক্ষ্য করে ফরাসি ইসলাম চালু করা যেটি সেকুলারিজম অনুসরণ করবে এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মতো জেহাদি সংগঠন হিসেবে কোনো কাজ করবে না। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হলান্দে মরক্কোর রাবাতের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ইমামদের প্রশিক্ষণের জন্য ২০১৫ সালে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।”

ফ্লোরেন্সে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ওলিভিয়ার রয় ব্যাখ্যায় বলেন, ‘ফরাসি ইসলাম হলো মধ্যপন্থী ইসলাম, সন্ত্রাসবাদের বিপরীত।’ তিনি সমস্যাও তুলে ধরেন, ‘ধর্মকে মধ্যপন্থী করা মানে কি?’ ১৯০৫ সালে ফ্রান্সের লিগাল সিস্টেম চার্চকে রাষ্ট্র

About admin2

Check Also

জানালা দিয়ে বউ পালালো! বিস্তারিত ভিতরে:

আমার বাংলা ৭১: আমার বাংলা ৭১: বউ পালালেন, তার পেছন পেছন পালালেন বরও। এটা কোনো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *