Home / Uncategorized / আলহামদুলিল্লাহ নিশ্চয়ই, মুহাম্মাদ (সা.) এর আমলই করোনায় নিরাপদ থাকার সহজ উপায়,বিস্তারিত ভিতরে’

আলহামদুলিল্লাহ নিশ্চয়ই, মুহাম্মাদ (সা.) এর আমলই করোনায় নিরাপদ থাকার সহজ উপায়,বিস্তারিত ভিতরে’

আল্লাহ মহান। তাঁর দয়ার কারনেই এই সুন্দর পৃথিবীতে আমা’দের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্ম’দ (সা.) এর আবির্ভাব ঘটেছিল। মুহাম্মা’দ (সা) ঘৃণাভরে প্র’ত্যাখ্যান করেছিলেন আরাম ও সুখের জীবন। তিনি যেমন সাহসী ও অকুতোভয় ছিলেন, তেমনি ছিলেন কোমল মনের মানুষ। তাঁর ব্যাক্তিত্বের প্রভাবে ইসলামের বিস্তার হয়েছে।”

মহামা’রি করোনার এ জটিল পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাআলার ছোট্ট একটি নির্দেশনার বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

‘তোমর’া নিজেরা নিজেদেরকে ধ্বং’সের দিকে ঠেলে দিও না।’ (সুরা বাকারা’ : আয়াত ১৯৫)

এ আয়াতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে হাদিসের ৬টি আমলই যথে’ষ্ট। এ আমলগু’লো যারাই যথাযথ গু’রুত্বের সঙ্গে মেনে চলেছে; তারাই নিজেদেরকে ধ্বং’সের হাত থেকে নিরাপ’দ রাখতে পারবে। থাকতে পারবে করোনামুক্ত। ইনশাআল্লাহ। হারামাইন ক’র্তৃপক্ষ করোনার শুরুর ‍দিকে এ নির্দেশনাগু’লোই জারি করেছিল। তাহলো-”

১. দূরত্ব বজায় রাখা

মহামা’রি করোনায় নিজেদের নিরাপ’দ রাখতে যথাযথ সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখার ‘বিকল্প নেই। আবার যারা করোনায় আ’ক্রা’ন্ত; আলাদা ব্যবস্থাপনায় তাদের চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি সুস্থদের থেকে দূরে রাখাও জরুরি। সংক্রা’মণ রোগের ক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনাও এমনই-“

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘যারা সংক্রমণ রোগে আ’ক্রা’ন্ত তাদের উচিত যারা সুস্থ তাদের থেকে দূরত্বে অবস্থান করা।’ (বুখারি ও মুসলিম)

২. বাইরে যতায়াত বা ভ্র্রমণ নি’ষি’দ্ধ

যে কোনো মহামা’রি ও সংক্রমক ব্যাধিতে আ’ক্রা’ন্ত জনপদের কেউ নিজ নিজ অবস্থান ‘ত্যাগ করতে পারবে না। হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে জোরালো নিষে’ধাজ্ঞা জারি করেছেন এভাবে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমর’া যখন কোনো শহর/নগর/অঞ্চলে মহামা’রি প্লেগের বিস্তারের কথা শুনো, তখন সেখানে প্রবেশ করবে না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমর’া সেখানে অবস্থান কর; তবে তোমর’া সেখান থেকে বেরিয়েও যেও না।’ (বুখারি)”

৩. সংকটকালে ঘরে অবস্থান করা

যে কোনো মহামা’রির সময় ঘরে অবস্থানের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্বনবি। মহামা’রি থেকে বেঁচে থাকতে বাঘের উদাহরণ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-”

হজরত আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কুষ্ঠ (মহামা’রি) রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।’ (বুখারি)

অর্থাৎ লকডাউন মনে করে হোম কোয়ারেন্টাইন তথা ঘরে অবস্থান করা খুবই জরুরি। আর তাতেই যে কোনো জটিল ও কঠিন মহামা’রি এবং সংক্রা’মক ব্যাধি থেকে সুস্থ ও নিরাপ’দ থাকা সম্ভব।

৪. মহামা’রিতে ঘরে ইবাদত”

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কোনো দুর্যোগ কিংবা মহামা’রিতে ঘরে ইবাদত-বন্দেগির নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ নিজেদের নিরাপ’দ রাখতে কুরআনের সেই আয়াতের বাস্তবায়নেরই শামিল। এ কারণেই নামাজ-ইবাদত ঘরে বাস্তবায়ন করে এ নির্দেশ দিয়ে দেখিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি-”

হজরত নাফি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, প্রচণ্ড এক শীতের রাতে হজরত ইবনে ওমর’ রাদিয়াল্লাহু আনহু যাজনান নামক স্থানে আজান দিলেন। অতঃপর তিনি ঘোষণা করলেন-

صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ

‘সাল্লু ফি রিহালিকুম’ অর্থাৎ তোমর’া আবাস স্থলেই নামাজ আ’দায় করে নাও।’

পরে তিনি আমা’দের জানালেন যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘লাইহি ওয়া সাল্লাম সফরের অবস্থায় বৃ’ষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে বললেন এবং সাথে সাথে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমর’া নিজ বাসস্থলে (ঘরে) নামাজ আ’দায় কর।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহম’দ)

অর্থাৎ তীব্র শীত কিংবা বৃ’ষ্টির কারণে নামাজের ওয়াক্তে আজান শুনে তোমা’দের মসজিদে উপস্থিত হওয়ার দরকার নেই। ঘরেই নামাজ আ’দায় কর। ঠিক এই করোনাকলীন সময়ে ঘরে ইবাদত-বন্দেগি করাও কুরআন-সুন্নাহর আমলেরই বাস্তবায়ন।”

৫. চিকিৎসা গ্রহণ ও সতর্কতা অবলম্বন

একান্তই যদি কেউ যে কোনো মহামা’রি বা রোগ-ব্যধিতে আ’ক্রা’ন্ত হয় তবে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্বনবি। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক উন্নত মানের চিকিৎসা, পথ্য এবং প’দ্ধতি আবি’ষ্কার করেছেন। হাদিসের নির্দেশনা হলো-”

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ পাঠাননি, যার আরোগ্যের ব্যবস্থা তিনি দেননি।’ (বুখারি)

৬. ঘন ঘন সাবান-পানিতে হাত ধোয়া”

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওজুর আমলেই বর্তমান মহামা’রি করোনা থেকে নিরাপ’দ ও মুক্ত থাকা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ নির্দেশই দিয়েছে। তাহলো- ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সম্পর্কে অনেক উপদেশ, উপমা ও নির্দেশ দিয়েছেন। যার প্রতিটিই সুস্থতা, পবিত্রতা ও নিরাপ’দ থাকার দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করে। যার দুইটি তুলে ধ’রা হলো-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে রোগ-জী’বাণু থেকে মুক্ত ও সুস্থ থাকতে খাওয়ার আগে উভয় হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে বলতেন। হাদিসে এসেছে-”

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো কিছু খাবার বা পান করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি উভয় হাত ভালোভাবে ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করতেন।’ (নাসাঈ)

একটি উপমা তুলে”

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, (তিনি বর্ণনা করেন) তোমর’া বলো : যদি তোমা’দের কারো দরজার (বাড়ির) সামনে দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় এবং ওই ব্যক্তি তাতে দৈনিক ৫ বার গোসল করে; তাহলে তার শরীরে কি কোনো ময়লা অবশি’ষ্ট থাকবে?”

সাহাবাগণ নিবেদন করলেন, ‘কোনো ময়লাই আর অবশি’ষ্ট থাকবে না।’

রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সুতরাং (দৈনিক) ৫ বার নামাজের দৃ’ষ্টান্ত হলো এই যে, আল্লাহর এর মাধ্যমে গোনাহসমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। (বুখারি ও মুসলিম)

অর্থাৎ নামাজের আগে ওজুর মাধ্যমে প্রতিটি অঙ্গ যেমন পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হয় তেমনি প্রতিটি অঙ্গের গোনাহও ওজুর পানির সঙ্গে চলে যায়। আর এ ওজুর মাধ্যমেই সুস্থ ও নিরাপ’দ থাকা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানও মহামা’রি করোনার প্রাদুর্ভাবে হাদিসের এ ৬টি দিকনির্দেশনা মেনে চলতে জোর দিয়ে পরামর’্শ দিয়ে যাচ্ছেন। যারা হাদিসের এ দিকনির্দেশনা যথাযথ মেনে চলবে তাদের তাকদিরে মৃ’ত্যু না থাকলে এ কথা সুনিশ্চিত যে, কোনো ব্যক্তি করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হবে না। আর করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হলেও মৃ’ত্যুর মুখোমুখি হবে না।”

একান্তই এ নির্দেশনা মেনে চলার পরও যদি কেউ মহামা’রিতে আ’ক্রা’ন্ত হয়। তা হবে তার জন্য শাহাদাতের মৃ’ত্যু। হাদিসে এসেছে-

‘কোনো বান্দা যদি মহামা’রি আ’ক্রা’ন্ত এলাকায় অবস্থান করে। আর নিজ বাড়িতে ধৈর্য সহকারে সাওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বা’স নিয়ে (ঘরে) অবস্থান করে যে, আল্লাহ তাআলা তাকদিরে যা চূড়ান্ত করে রেখেছেন, তার বাইরে কোনো কিছু তাকে আ’ক্রা’ন্ত করবে না, তাহলে তার জন্য রয়েছে একজন শ’হীদের সমান সাওয়াব।’ (মুসনাদে আহম’দ)”

হাদিসের এ নির্দেশনাগু’লো যথাযথ মেনে চলার কারণেই পবিত্র নগরী মক্কা ও ম’দিনা আজও মহামা’রি করোনা থেকে মুক্ত। সুতরাং মহামা’রি করোনা থেকে নিরাপ’দ ও সুস্থ থাকতে হাদিসের এ নির্দেশনাগু’লো মেনে চলার সর্বাত্মক চে’ষ্টা করা জরুরি।

করোনার এ সময়ে রা’ষ্ট্র ঘোষিত নির্দেশনা মেনে চলা, ঘরে অবস্থান করা, অযথা বাইরে বের না হওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সবার জন্য খুবই জরুরি।

About admin2

Check Also

অন’লাইনে শুক্রাণু কিনে ‘ই-বেবি’ জন্ম দিলেন নারী

দ্বিতীয় সন্তান নিতে আগ্রহী হন এক ব্রিটিশ নারী। কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী স্টেফনি টেলর নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *