Home / Uncategorized / দুনিয়ার সঙ্গে কেমন ছিলো রাসুল সা. এর সম্পর্ক?: মুফতি তাকি উসমানি ‘বিস্তারিত ভিতরে’

দুনিয়ার সঙ্গে কেমন ছিলো রাসুল সা. এর সম্পর্ক?: মুফতি তাকি উসমানি ‘বিস্তারিত ভিতরে’

Binodontimes: হযরত আয়শা রা. ইরশাদ করেন- রাসূল সা. যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন তার পবিত্র দেহ মুবার”’কে চাটা”য়ের দাগ বসে যেত। তাই এক”দিন আমি বিছা”নার চাদরটি ডাবল করে

বিছা”লাম যেন নবী”জীর সা. এর গায়ে দাগ না পড়ে এবং তিনি যেন আরাম পান। শােয়ার সময় রাসূল সা. আমাকে বললেন, হে আয়শা ! চাদর ডাবল করােনা। পূর্বের ন্যায় থাকতে দাও। আরেক রেও”’য়ায়েতে আছে- একদা হযরত আয়শা রা. শখ করে ঘরের দেয়ালে ছবি অংকিত একটি চাদর টানা”লেন। এতে রাসূল সা. অনেক বেশি অসন্তুষ্ট হলেন এবং বললেন, তুমি যতক্ষণ এ পর্দা না সরাবে তত”ক্ষণ আমি ঘরে প্রবেশ করব না।

এরপর আরেক দিন তিনি আরে”কটি চাদর টানা”লেন (তাতে ছবি ছিল না)। তবুও রাসূল সা. বললেন, হে আয়শা! অর্থ, আমি দুনিয়া দিয়ে কি করব? আমার দৃষ্টান্ত তাে সে যাত্রীর ন্যায় যে, স্বল্প সময়ের জন্য কোন বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়। এরপর আবার স্বীয় গন্ত”ব্যের দিকে ছুটে চলে।
বস্তুত প্রিয়নবী সা. উম্মত”কে দুনি”’য়াবী কাজ কর্ম হতে নিষেধ করেন নি, বরং এ শিক্ষা দিয়েছেন যে, এই নশ্বর পৃথিবীর পেছনে বেশী সময় ব্যয় করাে না। আখে”রাতের প্রস্তুতি”কেই প্রাধান্য দাও।

রাসূল সা. ইর”শাদ করেন اعمل للدنيا بقدر بقائك فيها واعمل للاخرة بقدر بقائك فيها অর্থ, দুনিয়ার জন্য সে পরিমাণ মেহনত কর যে পরিমাণ সময় তােমাকে এখানে থাকতে হবে। আর আখেরাতের জন্য সে পরিমাণ চেষ্টা এবং সময় ব্যয় কর যে পরিমাণ সময় তোমাকে সেখানে থাকতে হবে। আখেরাতে আমাদেরকে থাকতে হবে সদা”’সর্বদা এবং অনাদি-অনন্ত কাল।

তাই তার জন্য মেহনতও করতে হবে সীমা”হীন। আর দুনিয়াতে আমরা থাকবাে অনুর্ধ্ব ৬০-৭০ বছর। আর এরও কোন গ্যারান্টি নেই । তাই এর জন্য সামান্য”তম মেহন”তই যথেষ্ট। এটাই প্রিয় নবীর সা. এর শিক্ষা। অথচ আজ আমরা চব্বিশটি ঘন্টাই শুধু দুনিয়া-দুনিয়া করে মরছি। কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামা”যের জন্য সর্বোচ্চ আধা ঘন্টা সময় ব্যয় করতেও আমা”দের শত আপত্তি, বাধা, দ্বিধা ও নানা বাহানা।

সারা দিন শুধু মসজিদে বা খান”’কায় বসে থাকার নাম আখেরাতের কাজ করা নয়। দুনিয়াতে মানুষের শত জরুরত আছে। যদি এ জরু”রতগুলােক সাও”য়াবের নিয়তে আদায় করা হয় তাহলে এক দিকে যেমন পার্থিব চাহিদা পূরণ হবে তেমনি অপর দিকে পর”কালের সঞ্চয়ও হয়ে যাবে।

যেমনঃ পানা”হারের সময় যদি সত্যি”কারের নিয়ত করা হয় যে, এই পানাহার দ্বারা অর্জিত শক্তি দিয়ে আমি আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করবাের ব্যবসা-বাণিজ্য করার সময় যদি নিয়ত করে যে, আল্লাহর রাসূল ও জীবি”কার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। তাই আমিও করছি। এভাবে প্রতিটি কাজই যদি আল্লা”হর

সন্তুষ্টির নিয়তে রাসূলের সুন্নাত তরিকা অনুযায়ী হয় তাহলে সবই ইবা”’দতে পরি”ণত হবে এবং এর জন্য সাওয়াবও পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও মানুষের সাধার”ণত: হাতে বা পায়ে কাজ থাকে। মুখ প্রায় সকলেরই অবসর থাকে। বস, কাজ করার ফাকে ফাকে মুখে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা যায়। ফলে বিশুদ্ধ নিয়”তের সাওয়াব,

সুন্নাত তরিকায় কাজ করার সাওয়াব এবং মুখে যিকির করার সাওয়াব সব মিলিয়ে দেখা যাবে আখেরা”তের বিরাট পুঁজি হয়ে গেছে। আর এ ভাবেই আল্লাহ তায়ালা এ উম্মত”কে জান্নাত দান করবেন। নতুবা মাত্র ৬০-৭০ বৎসরের হায়াতে এত বিরাট গাঠুরি বােঝাই করা কোন ক্রমেই সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের”’কে বেশি বেশি নেক কাজে লেগে থাকার তাও”’ফিক দান করুন। আমিন।

About admin

Check Also

অন’লাইনে শুক্রাণু কিনে ‘ই-বেবি’ জন্ম দিলেন নারী

দ্বিতীয় সন্তান নিতে আগ্রহী হন এক ব্রিটিশ নারী। কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী স্টেফনি টেলর নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *