Breaking News
Home / জাতীয় / প্রায় এক বছর নির্যাতনের শিকার তরুণীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার

প্রায় এক বছর নির্যাতনের শিকার তরুণীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার

ভারতে যে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তিনি প্রায় এক বছর ধরে পরিবার থেকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলেন। মেয়েটির পরিবার বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে পাঠানোর কথা বলে ভারতে নেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে কয়েকজন মিলে এক তরুণীকে নির্যাতনের চিত্র প্রকাশ পায়। ওই ভিডিও নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ভিডিওতে দেখা যাওয়া পাঁচ নির্যাতনকারীর ছবি প্রকাশ করে তাঁদের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে পুরস্কার ঘোষণা করে ভারতের আসাম পুলিশ। পরে বেঙ্গালুরু পুলিশ বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় এ দেশের পুলিশও সক্রিয় হয়। অনলাইনে অনুসন্ধান চালিয়ে ভিডিওতে যাঁদের দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করে পুলিশ। রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় নামের ওই যুবক ঢাকার মগবাজার এলাকার বাসিন্দা। ভারতের বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই ঢাকায় তাঁর স্বজনদের দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করায় পুলিশ। সে সময় রিফাদুল ইসলাম মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালানোর কথা স্বীকার করে বলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন।

পরে রিফাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্যাতনের শিকার মেয়েটির পরিবারের সন্ধান পায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটির বাবা হাতিরঝিল থানায় রিফাদুলসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চারজনকে আসামি করে মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন।

সেই মামলায় তিনি লিখেছেন, ২২ বছর বয়সী তাঁর বড় মেয়েকে কয়েক বছর আগে বিয়ে দেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে তাঁর। বছর তিনেক আগে তাঁর জামাতা কুয়েতে চলে যান। এরপর থেকে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি এবং ঢাকায় তাঁর বাসা মিলিয়ে থাকতেন। একপর্যায়ে জামাতা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তারপর বছর দেড়েক আগে মেয়ে দুবাইয়ে যাবেন বলে তাঁকে জানান। কার মাধ্যমে দুবাইয়ে যাবেন জানতে চাইলে মগবাজার এলাকার বন্ধু হৃদয়ের মাধ্যমে ভারত হয়ে দুবাইয়ে যাবেন বলে জানান।

মেয়েকে বিদেশে যেতে বারণ করেছিলেন জানিয়ে মেয়েটির বাবা বলেন, এরপর প্রায় এক বছর তাঁর মেয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আত্মীয়স্বজনদের কাছে গিয়েও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে মেয়ের কথিত বন্ধু হৃদয়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, রিফাদুল ইসলাম হৃদয়সহ অপর আসামিরা তাঁদের কাউকে না জানিয়ে মেয়েকে দুবাইয়ে পাঠানোর কথা বলে পাচারের উদ্দেশ্যে বিদেশে নিয়ে গেছেন।

সর্বশেষ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আশপাশের পরিচিতজনদের কাছে মেয়ের খোঁজ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

রিফাদুল ইসলামসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশ বলছে, তাঁরা সবাই মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। তাঁদের সঙ্গে কেরালার কয়েক ব্যক্তিও জড়িত। তাঁদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আর নির্যাতনের শিকার মেয়েটি ভারতের অন্য একটি রাজ্যে রয়েছেন। তাঁকেও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

About admin

Check Also

আগামীকাল থেকে সারাদেশে ইঞ্জিন চালিত রিকশা, ভ্যান নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Binodontimes: আগামীকাল সোমবার থেকে সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রবিবার (২০ জুন) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *